রইসউদ্দিন ভূঞার জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৯শে আগস্ট টাঙ্গাইলের গোপালপুরে। বাবা এনছারউদ্দিন ভূঞা, মা মাহমুদা খাতুনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের কি-আইন, কাজীশাল গ্রামে হলেও ছেলেমেয়েদের শিক্ষার আদর্শ স্থান হিসেবে তাঁরা গোপালপুরকে বেছে নেন।
তিনি বিবেকহীনের মতো যুদ্ধবিমান চালনার ইচ্ছা নিয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দিয়েই বুঝেছিলেন যে, তাঁর পক্ষে যুদ্ধবিমান চালানো সম্ভব নয়। অনেক কায়দা করে ১৯৬৯ সালের ১৮ই মার্চ পাকিস্তান বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি পেয়ে ঢাকায় ফিরে এসে মাতৃভূমির সাহিত্য- সংস্কৃতি নিয়ে মেতে ওঠেন।
১৯৭১ সালের দোসরা মার্চ থেকেই প্রথমে বুয়েটের সোহরাওয়ার্দী হলের মাঠে পরে ঢাকার বক্শিবাজার আলীয়া মাদ্রাসার মাঠে তিনি ঐ এলাকার তরুণদের সংগঠিত করে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন নমাস ঢাকার মতিঝিলে তাঁর এক আত্মীয়ের পেট্রোল পাম্প নিপুনা সার্ভিস স্টেশনকে গোপন দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করে ঢাকা ও তার আশেপাশে গেরিলা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছিলেন। ঐ সময়ে তিনি পাঁচবার সরাসরি মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান।
মুক্তিযুদ্ধের পর ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মঞ্চে প্রথম সংবর্ত নাট্যগোষ্ঠীর ‘রক্তের নদী পেরিয়ে’ তাঁর উদ্যোগে মঞ্চস্থ হয়েছিল। বহুবচন নাট্যদল তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭২ সাল থেকে জনান্তিক সাহিত্য পত্রিকা তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো। রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্রের ট্রাস্টি পরিষদের তিনি একজন সদস্য। সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় ফিলিপ্স পুরস্কারের উদ্যোক্তাও তিনি।
১৯৭৫ সালের ১৬ই জুন বাকশাল সরকারের সিদ্ধান্তে ৪টি পত্রিকা ছাড়া দেশের সকল পত্রপত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ হওয়ার ফলে তাঁকে বাধ্য হয়ে ইন্টারএ্যাড বিজ্ঞাপন ও বিপণন ব্যবসা বেছে নিতে হয় কিন্তু দুর্নীতির কারণে পরে স্বর্লোক খামার নিয়ে দীর্ঘসময় ব্যস্ত ছিলেন। ১৯৯৮ সালে ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় খামার ধ্বংস হলে তিনি সব হারিয়ে ঢাকায় অপেক্ষমাণ কামরায় বসে আছেন।

Showing all 2 results

Show
Home
Shop
Wishlist0
Back to Top

Search For Products

Product has been added to your cart