নব্বই দশকের কবি সাবিনা ইয়াসমিনের কবিতায় রয়েছে আশ্চর্য এক গীতিময়তার দ্যুতি। তাঁর কবিতা অগ্রসর হয় বিষয়ের বৈচিত্র্য এবং দৈনন্দিন যাপিত জীবনের টুকরো চিত্রের যূথবদ্ধ নির্মাণে। নগরীর ব্যস্ত কোলাহলের সমান্তরালে তাঁর কবিতায় স্থান করে নেয় গ্রামের মেঠোপথ, নদী, জোছনা ও বৃষ্টির গান, পায়রার উল্লাস। তাঁর ভালো লাগে মাকুতে সুতো, জালের বুননে গাব। ভালো লাগে চারাধানের চাতর, লাঙলে জোয়াল, কপালের ঘাম, পেশিতে পেশিতে বিদ্যুৎচমক। শহীদকন্যা সাবিনা ইয়াসমিন খোলাচিঠি পাঠান শহীদের উদ্দেশে। তাঁর লেখা হয়ে ওঠে শহীদজায়ার বিরহবেদনার কাব্যিক বিম্বায়ন। ‘এখনও বর্ষা এলে তিনি রাত্রির অন্ধকার ঠেলে তোমার সমাধি খুঁড়ে খুঁড়ে দেখেন/ তাঁর হাতে সবুজ লণ্ঠন দোলে/ তুমি যে মাটিকে ভালোবেসেছিলে/ তিনি সে মৃত্তিকার ঘ্রাণে তোমাকে খোঁজেন।’মানবধর্মে বিশাসী সাবিনার উচ্চারণ-‘দেখলাম গোলাপ তাড়া করে ফিরছে ক্ষুধাকে/ ক্ষুধা নতজানু সুজাতার পরমান্নর থালায়/ তথাগত, আজ তোমার সামনে বসে বুঝেছি আমিও কখনও কখনও ভগবান হয়ে যাই/ বুঝে গেছি মানুষ মূলত ভগবান’- কবিতাকে দেয় এক নতুন জীবনের দর্শন।কবি পরম মমতায় তীরনই, চিলকা, তালমা, বুড়িতিস্তা, ডাহুক কিংবা রসেয়ার মতো অপ্রসিদ্ধ নদীগুলোকে তাঁর কবিতায় তুলে আনেন এবং তাদের দেন একটি অনন্য ব্যঞ্জনা। নদীকে তিনি যমজ বোন মনে করে বলেন: একটু হিল্লোলেই আমরা দু’জন তিরতির করে কাঁপি, আর বাংলাদেশের মাটিই আমাদের দু’জনের মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই।







Reviews
There are no reviews yet.