ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলেনের অন্যতম পুরোধা চারণকবি মুকুন্দ দাস দেশ, মাটি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তাঁর গান আর যাত্রাপালা নিয়ে এই বঙ্গের শোষিত, নির্যাতিত, অবহেলিত মানুষের মুক্তির বারতা ঘোষণা করেছেন, উদ্বুদ্ধ করেছেন দেশবাসীকে স্বদেশী চেতনায়। ফলশ্রুতিতে ব্রিটিশ সরকার মুকুন্দ দাসের যাত্রাপালা ও গানের আসর নিষিদ্ধ করে। একজন বিপ্লবী, কবি ও তাঁর গানের আসরের উপর ৩৬ বার নিষেধাজ্ঞা জারি করার নজির পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি আছে কি না আমার জানা নেই, যা ব্রিটিশ সরকার করেছিলেন। গানের আসর থেকে বন্দি করে শিল্পী মুকুন্দ দাসকে প্রহসনমূলক বিচারে ৩ বছর ও তাঁর ভাইকে ৬ মাসের জেল দেয়। মুকুন্দ দাসকে তিনশত টাকা জরিমানা করে এবং সারাজীবন গান গেয়ে পাওয়া তাঁর সোনার মেডেলগুলো নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থদন্ড আদায় করে ব্রিটিশ সরকার।কবিতা না উপন্যাস? শিরোনামের এমন দ্বন্দ্ব-দোলাচলে নিমজ্জিত অনেক পাঠক। কেতকী না লাবণ্য এই দোলাচলে আচ্ছন্ন বিলাত ফেরত ব্যারিস্টার অমিত শিলং পাহাড়ের পথে বিপরীতমুখী দুটি গাড়ির পরস্পর আকস্মিক দুর্ঘটনায় পরিচিত হয় লাবণ্যের সঙ্গে। অনেক তর্ক-বিতর্ক, মান-অভিমানের পর অমিত লাবণ্যের বিয়েটা যখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলতে দুলতে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, ঠিক সেই সময় অমিতের বোন সিসি তার বন্ধু কেতকী ও কেতকীর ভাই নরেন শিলং গিয়ে উপস্থিত হয়। কেতকীর সাথে বিলাতে থাকার সময় অমিতের একটা গভীর মুগ্ধতার সম্পর্ক ছিল এবং সে সময়টাতে অমিত কেতকীকে ভালোবেসেই আংটি পরিয়েছিল। লাবণ্যর সাথে অমিতের বিয়ের খবর শুনে কেতকী সে আংটি খুলে রাগে, অভিমানে অশ্রুসিক্ত নয়নে শিলং ছেড়ে বৃষ্টিবিধৌত চেরাপুঞ্জি চলে যায় এবং লাবণ্যর অনুরোধ রক্ষায় অমিতও যায় সঙ্গে। এমন পটভূমিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৬৭ বছর বয়সে লেখা একটি বিখ্যাত প্রেমের উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’র নাট্যরূপ শেষের কবিতা হয় অনন্ত হিরার হাতে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা এবং তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-সামস বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে যে গণহত্যা ও গণধর্ষণের মতো নির্মমতায় লীন করে তুলেছিল বাংলার আটষট্টি হাজার গ্রাম তারই কিছু খন্ডচিত্রের নাট্য নির্মাণ ‘কনডেম সেল’।অনন্ত হিরা এই তিন নাটক নিয়ে, একই অঙ্গে তিনরুপের কেন বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তা আমারও কিছুটা অজানা। সেইসব অজানাকে আবিষ্কার করার কিছুটা দায় থাকুক না প্রিয় পাঠকের। এক মলাটে তিন অবয়ব, তিন অভিব্যক্তি- লোকনায়ক, শেষের কবিতা ও কনডেম সেল।আলফ্রেড খোকন, কবি। ঢাকা, বাংলাদেশ, ৩ জানুয়ারি, ২০১৭



Reviews
There are no reviews yet.