১৯৩০ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পিত্রালয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন নিরহংকারী। স্বামী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্তে¡ও খুবই সাদামাটা জীবনযাপন করতেন তিনি। পার্থিব বিত্ত-বৈভব ও যশ খ্যাতি তাঁকে আকৃষ্ট করতে পারেনি কখনোই। তবুও স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্র তাঁকে বাঁচতে দেয়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট স্বামী-পুত্র, পুত্রবধূসহ নির্মমভাবে শহিদ হন। পৃথিবীর ইতিহাসে এ এক কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব বাঙালি নারীদের জন্য যে আদর্শ রেখে গেছেন তা যুগ যুগ ধরে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। সম্ভ্রান্ত ও সচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠা বেগম মুজিব তাঁর সহজাত গুণাবলির কারণে সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন। ষাটের দশকের শেষ দিকে বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের জিন্দানখানায় বন্দি ছিলেন, রাজনৈতিক নেতা কিংবা মাঠকর্মীরা যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত তখন বেগম মুজিব বিশ্বস্ত কান্ডারির মতো তাদের দিয়েছিলেন পথের দিশা; প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দিয়ে আন্দোলনকে করে তুলেছিলেন বেগবান। বেগম মুজিবের দূরদর্শী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণেই তখন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটি হয়ে উঠেছিল নেতা-কর্মী ও স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষের ঠিকানা; সমগ্র বাংলাদেশের আস্থার প্রতীক।







Reviews
There are no reviews yet.