ভূগোল, মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে সম্পর্কের পারস্পরিকতা বা আন্তঃসম্পর্কের নিয়ামকসমূহ অন্বেষণের লক্ষ্যে এ গ্রন্থ রচিত হয়েছে। যে কোনো ভূ-স্থানিক পরিবেশে মানুষের কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে একটি সাংস্কৃতিক আবহ গড়ে ওঠে। বিভিন্ন ভৌগোলিক পরিধিতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক অনুষঙ্গের আধিপত্য বা প্রভাব গড়ে ওঠে। যেমন— দ্বীপাঞ্চলের জীবনধারায় সমুদ্রের প্রভাব রয়েছে, সমুদ্রের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সম্পর্কের কারণে তার জীবন-যাপন ও দর্শনে এবং দৃষ্টিভঙ্গি নির্মাণে সমুদ্রের প্রভাব অনেকখানি, মানসিকভাবেও তাদের মধ্যে সংগ্রামী চেতনার প্রবণতা তীব্রভাবে পরিলক্ষিত হয়। অন্যদিকে পার্বত্য অঞ্চলের চড়াই-উৎরাই পরিবেশের মধ্যে বনের গহীনে অরণ্যে যাদের বসবাস, তাদের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি, বিশ্বাস, সংস্কৃতি এমনকি শারীরিক গঠন শৈলীও অন্য অঞ্চল থেকে ভিন্ন। এছাড়া সুন্দরবনে প্রকৃতিকে নির্ভর করে যে জীবনধারা গড়ে ওঠে তার সঙ্গে সংস্কৃতিগতভাবেই ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে গারো পাহাড়ের পাদদেশের জীবনধারার সঙ্গে। এ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানবজীবনের ভিন্ন ভিন্ন চিত্র অন্বেষণের প্রয়াস নিবদ্ধ ছিল এ গবেষণায়। অর্থাৎ স্থানের সঙ্গে পরিবেশের এবং পরিবেশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের স্বরূপ আলোচিত হয়েছে এ গ্রন্থে। কেবল স্থানিক পরিবেশ কিংবা প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক আবহ গড়ে ওঠে না। অবশ্যই সেখানে মানুষের উপস্থিতি প্রয়োজন। মানুষ ছাড়া কোনো সংস্কৃতি বিনির্মিত হবার সুযোগ নেই। মানুষের কর্মকা-ই তার সংস্কৃতির মূল আধার। স্থানিক পরিবেশে মানুষ ও তার সংস্কৃতি নিয়ে যখন শিল্পিত কিছু রচিত হয় তখন তা এক ভিন্ন মাত্রায় রূপ নেয়। মানুষকে কেন্দ্র করেই যখন স্থানিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে একটি কাহিনি-কাঠামো লাভ করে এবং সেখানে শিল্পিত ধ্যান-অনুধ্যান প্রতিফলিত হয়, তখন তার একটি সাহিত্য মূল্য গড়ে ওঠে। নদী-পাহাড়-বন-বাদাড়- অরণ্য-সাগর প্রকৃতির এইসব অনুষঙ্গ কখনোই পূর্ণতা পায় না মানুষের সান্নিধ্য ছাড়া। প্রকৃতির এইসব অনুষঙ্গের মধ্যে মানুষের উপস্থিতি ভিন্ন তাৎপর্য নিয়ে উদ্ভাসিত হয়। এমনি করে মানুষ-প্রকৃতি-পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ায় সেখানে যে রস ঘনীভূত হয় তাই উপন্যাসে প্রতিফলিত হয় ঔপন্যাসিকের সৃষ্টিশীল, মননশীল চিন্তার মাধুর্য দিয়ে। নান্দনিক এই সৃষ্টি প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানুষ-পরিবেশ ও ভূ-সংস্থানের সম্পর্কের পারস্পরিকতা এই গ্রন্থে বিশ্লেষিত হয়েছে নানাভাবে, নানামাত্রায়।আনিস রহমান মূলত একজন কথাশিল্পী। তার গবেষণা অভিসন্দর্ভ হিসেবে এ গ্রন্থটি রচিত হয়েছে। তবে জটিলতার মধ্যে না গিয়ে তিনি সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় তার অভিসন্দর্ভটি রচনা করেছেন। ফলে তা হয়েছে একান্তই প্রাতিস্বিক এবং শিল্পমান উত্তীর্ণ। এ গ্রন্থটি পাঠ করে পাঠকগণ ব্যঞ্জনাময় অনুভূতি লাভ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।ড. খালেদ হোসাইনকবি ও অধ্যাপক







Reviews
There are no reviews yet.