শাহরিয়ার শান দিহান একজন ইঞ্জিনিয়ার। প্রতিষ্ঠিত ছেলে। বিয়ের জন্য উপযুক্ত সময়। মা পাত্রীর সন্ধানও করছেন। কিন্তু দিহানের কর্মময় জীবনের বাইরেও তার মনোজগতে বিচরণ করে কোনো প্রিয়মুখ। তার কল্পনায়, ধ্যানে, অনুভবে, অশেষ মুগ্ধতায় বারবার যে ধরা দেয়, তাকে বাস্তবে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। হঠাৎ একদিন নীলক্ষেতে বইয়ের দোকানে দিহান একটি মেয়েকে দেখতে পায়। দীর্ঘদিন ধরে এমন সুশ্রী, স্মার্ট, গম্ভীর, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একটি মেয়ে কল্পনায় সে পোষণ করে আসছিল। তাকে হাতছাড়া না-করার যাবতীয় কৌশল সে ব্যবহার করে। জয় করে মেয়েটির ভালোবাসা। নাম তার উর্বশী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় এমএ পড়ে।দিহান নারীসঙ্গ আগে কখনও পায়নি। উর্বশীকে স্পর্শ করেই সে বুঝেছে, স্পর্শ ছাড়া প্রেম জমে না, কাউকে ষোলোআনা স্পর্শেই পাওয়া যায়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, উর্বশীর স্বেচ্ছাচারী বাবার একক সিদ্ধান্ত আর হুঙ্কারের মুখে উর্বশীর সযতেœ বেড়ে ওঠা ভালোবাসা টুকরো টুকরো হয়ে ছিটকে পড়েছে গহ্বরে। বাধ্য হয়ে বিয়ে করতে হয়েছে অচেনা এক পুরুষকে। পারস্পরিক বোঝাপড়ায় সম্পর্ক হয়ে উঠতে পারে আনন্দদায়ক অথচ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও শিক্ষিত উর্বশী তার স্বকীয়তা, ব্যক্তিত্ব আর ইচ্ছাশক্তির মৃত্যু ঘটায়। পরিবার কিংবা সমাজ এখনও পারেনি মুক্তচিন্তার চর্চা করে চিন্তার বিকাশ ঘটাতে। সমাজের বৃত্তাবদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে নারী পায়নি আত্মিক মুক্তি। বাবার হাতে গড়া মেয়ে বাবার হাতেই বলি হয়েছে।আর দিহানের কী হলো? জীবনের মাঝপথে ব্যর্থ হয়েছে দিহানের চাওয়া-পাওয়ার সকল আয়োজন। হৃদয়ের রক্তক্ষরণই তার বাকি জীবনের সঙ্গী হলো।পাওয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার সাথে আর আশা করে না-পাওয়ার বেদনার সাথে যার পরিচয় নেই, সে কি বুঝবে শেষ দৃশ্য উপন্যাসে মনস্তাপে ভেঙে পড়া যুবকের মর্মজ্বালা?







Reviews
There are no reviews yet.